ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমের হপার পোকার ক্ষতির ধরন ও দমনের উপায়

কৃষি প্রযুক্তি
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৩৮৬৩৩ বার পড়া হয়েছে

আমের হপার পোকার ক্ষতির ধরন ও দমনের উপায়

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

আমের হপার পোকার ক্ষতির ধরন ও দমনের উপায়

 

 

 

আম চাষিদের বড় একটা উদ্বেগের কারণ হপার পোকা। অঞ্চলভেদে এ পোকা ফুদকি পোকা নামেও পরিচিত। অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এ পোকা থাকতে পছন্দ করে। সারা বছরই বাগানে এ পোকা দেখা যায়। তবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে যখন আম গাছে মুকুল আসে তখন এ পোকার উপদ্রব বেশি দেখা যায়।

ক্ষতির ধরনঃ

নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ উভয় অবস্থায় হপার পোকা গাছের ক্ষতি করতে পারে। এরা গাছের কচি অংশ যেমন নতুন পাতা, মুকুল, ফল, কচি কাণ্ড থেকে রস চুষে খায়। আমের মুকুল বের হওয়ার সাথে সাথে এ পোকা মুকুলে আক্রমণ করে এবং সেখান থেকে রস চুষে খায়ে। ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে।

 

 

একটি হপার পোকা দৈনিক তার দেহের ওজনের ২০ গুন বেশি রস শোষণ করতে পারে। দেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত রস তারা মলদ্বার দিয়ে বের করে দেয়। মলদ্বার দিয়ে বের হওয়া এ রস কিছুটা আঠাল থাকে যা “মধুরস” বা “হানিডিউ” নামে পরিচিত।

 

 

 

 

এ মধুরস মুকুল ও পাতার উপর জমা হয়, যার কারণে সেখানে “শুটি মোল্ড” নামক ছত্রাক জন্মায়। এ ছত্রাকের আক্রমনে পাতা, মুকুলে কাল রঙের স্তর পড়ে যা গাছের সালোকসংশ্লেষণে বাধা দেয়। আক্রমণ বেশি হলে পুরো বাগান থেকে কোন ফলন নাও আসতে পারে। তাই সঠিক সময়ে এ পোকা দমন করতে হবে।

 

 

 

আক্রমণের পর্যায় : কুশি, চারা, ফলের বাড়ন্ত পর্যায়।
ফসলের যে অংশে আক্রমণ করে : কাণ্ড , পাতা , ডগা

পোকার যেসব স্তর ক্ষতি করে : পূর্ণ বয়স্ক , নিম্ফ।

ব্যবস্থাপনা :

আমের মুকুল রক্ষার জন্য হপার পোকা দমনের উপায়:

১ম স্প্রে :

গাছে মুকুল আসার পর এবং ফোটার আগে ইমিডাক্লোফিড গ্রুপের কীটনাশক লিটারে ০.৫০ মিলি ও ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাক নাশক ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে একবার।

 

 

ফুল ফোটা অবস্থায় কোন প্রকার কীটনাশক স্প্রে করা যাবে না। কারন এসময় অনেক উপকারী পোকা ফুলের পরাগায়ন ঘটায়।

 

 

২য় স্প্রে :

 

 

আম মটর দানার মত হলে একই হারে কীটনাশক ও ছত্রাক মিশিয়ে সমস্ত গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে একবার।
আমের গুটি মটরদানার মতো হলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার মিশিয়ে স্প্রে করলে আমের গুটি ঝড়া কম করে।

 

আমের হপার পোকার কারণে যেহেতু সুটিমোল্ড বা ঝুল রোগের আক্রমণ ঘটে তাই রোগ দমনের সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন- কুমুলাস ডিএফ ৪০ গ্রাম ১০ লিটার বা থিওভিট ৪০ গ্রাম ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে) ১০ দিন পর পর ২-৩ বার শেষ বিকেলের দিকে স্প্রে করুন।ঔষধ স্প্রে করায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমের হপার পোকার ক্ষতির ধরন ও দমনের উপায়

আপডেট সময় : ১০:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

 

 

আমের হপার পোকার ক্ষতির ধরন ও দমনের উপায়

 

 

 

আম চাষিদের বড় একটা উদ্বেগের কারণ হপার পোকা। অঞ্চলভেদে এ পোকা ফুদকি পোকা নামেও পরিচিত। অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এ পোকা থাকতে পছন্দ করে। সারা বছরই বাগানে এ পোকা দেখা যায়। তবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে যখন আম গাছে মুকুল আসে তখন এ পোকার উপদ্রব বেশি দেখা যায়।

ক্ষতির ধরনঃ

নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ উভয় অবস্থায় হপার পোকা গাছের ক্ষতি করতে পারে। এরা গাছের কচি অংশ যেমন নতুন পাতা, মুকুল, ফল, কচি কাণ্ড থেকে রস চুষে খায়। আমের মুকুল বের হওয়ার সাথে সাথে এ পোকা মুকুলে আক্রমণ করে এবং সেখান থেকে রস চুষে খায়ে। ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে।

 

 

একটি হপার পোকা দৈনিক তার দেহের ওজনের ২০ গুন বেশি রস শোষণ করতে পারে। দেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত রস তারা মলদ্বার দিয়ে বের করে দেয়। মলদ্বার দিয়ে বের হওয়া এ রস কিছুটা আঠাল থাকে যা “মধুরস” বা “হানিডিউ” নামে পরিচিত।

 

 

 

 

এ মধুরস মুকুল ও পাতার উপর জমা হয়, যার কারণে সেখানে “শুটি মোল্ড” নামক ছত্রাক জন্মায়। এ ছত্রাকের আক্রমনে পাতা, মুকুলে কাল রঙের স্তর পড়ে যা গাছের সালোকসংশ্লেষণে বাধা দেয়। আক্রমণ বেশি হলে পুরো বাগান থেকে কোন ফলন নাও আসতে পারে। তাই সঠিক সময়ে এ পোকা দমন করতে হবে।

 

 

 

আক্রমণের পর্যায় : কুশি, চারা, ফলের বাড়ন্ত পর্যায়।
ফসলের যে অংশে আক্রমণ করে : কাণ্ড , পাতা , ডগা

পোকার যেসব স্তর ক্ষতি করে : পূর্ণ বয়স্ক , নিম্ফ।

ব্যবস্থাপনা :

আমের মুকুল রক্ষার জন্য হপার পোকা দমনের উপায়:

১ম স্প্রে :

গাছে মুকুল আসার পর এবং ফোটার আগে ইমিডাক্লোফিড গ্রুপের কীটনাশক লিটারে ০.৫০ মিলি ও ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাক নাশক ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে একবার।

 

 

ফুল ফোটা অবস্থায় কোন প্রকার কীটনাশক স্প্রে করা যাবে না। কারন এসময় অনেক উপকারী পোকা ফুলের পরাগায়ন ঘটায়।

 

 

২য় স্প্রে :

 

 

আম মটর দানার মত হলে একই হারে কীটনাশক ও ছত্রাক মিশিয়ে সমস্ত গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে একবার।
আমের গুটি মটরদানার মতো হলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার মিশিয়ে স্প্রে করলে আমের গুটি ঝড়া কম করে।

 

আমের হপার পোকার কারণে যেহেতু সুটিমোল্ড বা ঝুল রোগের আক্রমণ ঘটে তাই রোগ দমনের সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন- কুমুলাস ডিএফ ৪০ গ্রাম ১০ লিটার বা থিওভিট ৪০ গ্রাম ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে) ১০ দিন পর পর ২-৩ বার শেষ বিকেলের দিকে স্প্রে করুন।ঔষধ স্প্রে করায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 

 

 

Facebook Comments Box