আগামী এক সপ্তাহে আরও ২০টি ভূকম্পন হওয়ার সম্ভাবনা
- আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ৩৭৯০ বার পড়া হয়েছে
আগামী এক সপ্তাহে আরও ২০টি ভূকম্পন হওয়ার সম্ভাবনা
আগামী এক সপ্তাহে আরও ২০টি ভূকম্পন হওয়ার সম্ভাবনা।
আরও ২০টি ভূকম্পন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী এক সপ্তাহে। নরসিংদী অঞ্চল এ ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত।
ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দুই দিনের ব্যবধানে পরপর চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী এবং একটি ঢাকায়। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে প্রথম ভূমিকম্পটির পর শনিবার (২২ নভেম্বর) দিনের বিভিন্ন সময়ে আরও তিনটি ভূকম্পন জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার, ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। এ ঘটনায় শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।
পড়ুন>>ভূমিকম্পেই সরে গিয়েছিল গঙ্গা: বালির আগ্নেয়গিরি জানাল পথবদলের গল্প
এদিকে, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় একটি গোপন ভূ-চ্যুতি (ফল্ট) শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এ ফল্ট সক্রিয় হলে বাংলাদেশে ৯ মাত্রার বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক ভূকম্পনগুলোর বিশ্লেষণ নিয়ে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, “দুই দিনে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহে আরও ২০টি ভূকম্পন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ৫.৭ মাত্রার চেয়েও বেশি শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্প হয়, তাহলে তা ভয়াবহ দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।” তিনি নরসিংদী অঞ্চলকে এ ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটি ভারত, ইউরেশিয়া ও বার্মা—এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্লেটগুলোর চলাচল বর্তমানে অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয়। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের রুবাইয়াত কবির বলেন, “প্লেটগুলো আটকে থাকা অবস্থা থেকে খুলে যাচ্ছে। ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের দিকে অগ্রসর হলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়বে।”
২০১৬ সালের গবেষণায় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ‘মেগাথার্স্ট ফল্ট’ শনাক্ত করা হয়, যা পললস্তরের নিচে কয়েকশ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, “সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত প্লেট সংযোগস্থলে গত ৮০০ থেকে এক হাজার বছরে জমে থাকা শক্তি এখনও মুক্ত হয়নি। এ অঞ্চল এখন ‘রিং অব ফায়ার’-এর মতোই ঝুঁকিপূর্ণ।”
পড়ুন>>ঢাকায় আরও ২ দফা ভূমিকম্প অনুভূত: উৎপত্তিস্থল বাড্ডা ও নরসিংদী
সম্প্রতি নরসিংদীর ঘোড়াশাল এলাকার একটি ফাটল থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ। বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আ স ম ওবায়দুল্লাহ জানান, মাটি বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের গভীরতা ও প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, ১৭৬২ সালে টেকনাফ-মিয়ানমার ফল্টে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সেন্টমার্টিন দ্বীপ প্রায় ৩ মিটার উঁচু হয়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেই ফল্ট লাইনে আবারও শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের লক্ষণ।
সাম্প্রতিক ভূকম্পন ও চলমান প্লেট গতিবিধির প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশকে সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকার তাগিদ দিয়েছেন। দেশের বহুতল ভবন, যানবাহন, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা কাঠামো—সবকিছুকে ভূমিকম্প-সহনশীল করে তোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারা।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























